আমার পাঁচ ভাগ্নীদের শাসনের যন্ত্রনায় মাঝে মাঝে ফোন অফ করে রাখতে হয়…মেঝো বোনের মেয়ে মিথিলা আবার আমার মায়ের ভূমিকা পালন করে…ফোন করে খাইছি কিনা, গোসল করছি কিনা, সারাদিন কি করলাম এই সব তথ্য তারে রিপোর্ট করতে হয়…….
সকালে অফিসে যাচ্ছি; তখন ফোন করে বলল; মামা তোমার সব ভাগ্নীরা বেড়ানোর জন্য রওনা হচ্ছে তুমি রেডী হও…ঝকঝকে রোদে প্রচন্ড গরমে কাহিল অবস্থা…এই সময়ে ভাগ্নীদের কিভাবে ঘুরন্তিস করামু এই নিয়া টেনশন…তাও আবার একদিনের মধ্যে সব কাভার করতে হইবেক…ঠিক করলাম ছোট বেলার বইয়ে পড়া মহাকবি মাইকেল মধূসূদনের জন্মস্থান সাগড়দারি ও কপোতাক্ষ নদ হউক ভ্রমনের স্থান…সবগুলা ঢাকা থেইকা হৈ চৈ করতে করতে সন্ধ্যায় হাজির…….
সক্কাল বেলা কেও-মেও; হৈ চৈ এর মধ্যে ঘুম থেইকা উইঠা দিলাম রওনা…পুরা গাড়ি জুড়ে হাসির গড়া গড়ি, কথার ফোয়ারা…দেখতে ভাল লাগছে, পিচ্চি ভাগ্নীগুলা কত দ্রুত বড় হয়ে যায়…যখন সাগড়দারি পৌছুলাম কাঠফাটা রোদ…কয়েক বছর আগে যখন এসেছিলাম তার চেয়ে কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধন চোখে পরল…রাস্তাঘাট আগের তুলনায় ভাল হয়েছে, কবির বসতভীটাটি আরো অর্গানাইজড ও সংরক্ষিত হয়েছে…
ঘুরা ফেরা শেষে বললাম চল কপোতাক্ষ নদ দেখে আসি আর লাঞ্চটা সেরে ফেলি…হৈ চৈ গল্প করতে থাকা ভাগ্নীগুলা নদীর কাছে এসে তো মহা হতাশ ”মামা এটা বইয়ে পড়া কপতাক্ষ নদ?”…নদের অবস্থা দেখে আমি তখন চরম শকড, কুচুরীপানা পূর্ণ নদ দেখে বোঝার উপায় নেই এক সময় মহাকবি ফ্রান্সের ভার্সেইলেসে বসে রচনা করেছিলেন শতত, হে নদ…..|
খোলা জানালা
বাংলায় ভাবি...বাংলায় লিখি...বাংলাকে ভালবাসি...
Wednesday, July 1, 2009
Tuesday, June 30, 2009
দিনের পর দিন, ১২ আষাঢ় ১৪১৬ (প্রেমগলি…..)
আরমোরা ভেঙ্গে উঠতে উঠতে সারে এগারোটা বেজে গেল…তাও ঘুম ভাঙ্গত কিনা সন্দেহ, দড়জায় নক হওয়ার শব্দে তিরিক্ষী মেজাজ নিয়ে উঠতেই হল…ছুটির দিনের ঘুমের মজাই আলাদা……….
বুয়া ভিতরে ঢুকেই গজ গজ করতে করতে বলল, “হামি সেই সক্কাল থেইক্কা ৩বার আইচি তাও দেহি ভাইয়ের ঘুম ভাঙ্গেনা”…বেচারি!!! কফি বসাইয়া বিড়ি ধরইয়া বারান্দায় আসলাম…এলাকার গলিটা এখন একটু শান্ত, তবুও রিক্সার হুড উঠানো কিছু কিছু জুটি যাচ্ছে…আমার এই গলিটার অলিখিত নাম প্রেমগলি; আশে-পাশে প্রচুর স্কুল কলেজ থাকায় সব জুটিরা আমাদের ছায়া সু-নিবির গলিটিকে চলন্ত প্রেমের জ্বলন্ত স্পট হিসেবে ব্যবহার করে…মাঝে মাঝে বে-হিসেবি হাতের নরাচরা দেখতে হয়; তবে পোলাপাইন স্মার্ট আছে লোক দেখলেই হাত খানি বান্ধবির বুকের কাছে রাখা ব্যাগ অথবা ঘড়ি দেখায় মগ্ন হয়, নয়তবা রিক্সার হুড ঠিক করার কাজে নিয়োজিত হয়…আমার বারান্দার সুবিধা হলো গলির দু’পাশের অর্ধেক দৃশ্য কাভার করা যায়…তবে মজা নাই আমগো মহল্লার পাখি গুলা আবার খুব ভালা, স্কুল/কলেজ যাওন ছাড়া সব সময় ঘরেই থাকে…আরে মাঝে মাঝে বারান্দায় আয়; নয়তবা ছাদে যা; তা না, যত্ত সব বোরিং!!!……..
হঠাৎ করেই দৃশ্যটায় চোখ গেল, এক চাচা মিয়া বাজারের ব্যাগ নিয়া হেটে হেটে ফিরছে, বিপরীত দিক থেকে একটি জুটি রিক্সায় করে আসছে…চাচা মিয়া হঠাৎ রিক্সার সামনে ব্রেক করে দাড়াল, রিক্সাওয়ালা থতমত খেয়ে দাড়িয়ে পড়ল…চাচা মিয়া চিৎকার করে;
হারামজাদী রিক্সা থেইক্কা নাম…
রিক্সায় বসা তরুনটি জাস্ট জাম্প করে পিছন ফিরে দৌড় লাগাল আর তরুনিটি ফ্যাকাসে চেহারা নিয়ে থর থর করে কাপঁতে কাপঁতে রিক্সা থেকে নামল…ঠাশ!!! করে একটা আওয়াজ হলো, বারান্দা থেকে সরে পড়লাম……..
প্রেম ভালবাসায় বাধাঁ আছে…..তারপরও চলছে চলবেই………
বুয়া ভিতরে ঢুকেই গজ গজ করতে করতে বলল, “হামি সেই সক্কাল থেইক্কা ৩বার আইচি তাও দেহি ভাইয়ের ঘুম ভাঙ্গেনা”…বেচারি!!! কফি বসাইয়া বিড়ি ধরইয়া বারান্দায় আসলাম…এলাকার গলিটা এখন একটু শান্ত, তবুও রিক্সার হুড উঠানো কিছু কিছু জুটি যাচ্ছে…আমার এই গলিটার অলিখিত নাম প্রেমগলি; আশে-পাশে প্রচুর স্কুল কলেজ থাকায় সব জুটিরা আমাদের ছায়া সু-নিবির গলিটিকে চলন্ত প্রেমের জ্বলন্ত স্পট হিসেবে ব্যবহার করে…মাঝে মাঝে বে-হিসেবি হাতের নরাচরা দেখতে হয়; তবে পোলাপাইন স্মার্ট আছে লোক দেখলেই হাত খানি বান্ধবির বুকের কাছে রাখা ব্যাগ অথবা ঘড়ি দেখায় মগ্ন হয়, নয়তবা রিক্সার হুড ঠিক করার কাজে নিয়োজিত হয়…আমার বারান্দার সুবিধা হলো গলির দু’পাশের অর্ধেক দৃশ্য কাভার করা যায়…তবে মজা নাই আমগো মহল্লার পাখি গুলা আবার খুব ভালা, স্কুল/কলেজ যাওন ছাড়া সব সময় ঘরেই থাকে…আরে মাঝে মাঝে বারান্দায় আয়; নয়তবা ছাদে যা; তা না, যত্ত সব বোরিং!!!……..
হঠাৎ করেই দৃশ্যটায় চোখ গেল, এক চাচা মিয়া বাজারের ব্যাগ নিয়া হেটে হেটে ফিরছে, বিপরীত দিক থেকে একটি জুটি রিক্সায় করে আসছে…চাচা মিয়া হঠাৎ রিক্সার সামনে ব্রেক করে দাড়াল, রিক্সাওয়ালা থতমত খেয়ে দাড়িয়ে পড়ল…চাচা মিয়া চিৎকার করে;
হারামজাদী রিক্সা থেইক্কা নাম…
রিক্সায় বসা তরুনটি জাস্ট জাম্প করে পিছন ফিরে দৌড় লাগাল আর তরুনিটি ফ্যাকাসে চেহারা নিয়ে থর থর করে কাপঁতে কাপঁতে রিক্সা থেকে নামল…ঠাশ!!! করে একটা আওয়াজ হলো, বারান্দা থেকে সরে পড়লাম……..
প্রেম ভালবাসায় বাধাঁ আছে…..তারপরও চলছে চলবেই………
Monday, June 29, 2009
দিনের পর দিন, ২৪ বৈশাখ ১৪১৬ (আবার চার চোখ…..)
গতকাল সন্ধ্যার ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যশোরে পৌছে…লম্বা একটা গোসল দিয়ে ধাতস্ত হচ্ছি…তখনি দড়জায় নক, নক, নক…খোলামেলা অবস্থায় ছিলাম, একরাশ বিরক্তি নিয়ে, দ্রুত ভদ্রস্থ হয়ে দড়জা খুলেই হাস্যজ্বল চার চোখের সাবরিনার সঙ্গে দেখা…….
“আম্মু আপনার জন্য পাঠিয়েছে”…..
প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে বাটিটি গ্রহণ করে দেখি কাঠাল, উফ!! আমার অপছন্দের ফল…..হাসি মুখে বললাম থ্যাঙ্কু……খুব খিদা পেয়েছিল……
“ভাইয়া; আমার জন্য কি নিয়ে এসছেন”
একটু অবাক হয়ে শুধালাম…কি ব্যাপার আঙ্কেল থেকে ভাইয়া হলাম কখন….
“সঙ্গে সঙ্গে স্যরি আঙ্কেল বলে দন্তপাটি বিকশিত করল”
যা শালা!!! ভাইয়া ডাকটাইতো ঠিক ছিল….মেজাজটা তিরিক্ষী হতে হতে ম্যানেজ করে হাসি মুখে বললাম…..এনেছি একটা কিছু কিন্তু এখন দিবনা….
“বলেননা….কি এনেছেন….প্লীজ……”
তোমার পছন্দের জিনিস…….
“ডিটেইলস বলেন, আমি কাউকে বলবনা!!”
প্ররোচিত করার প্রচেষ্টা দেখে একটু অবাক হলাম, তার আচরনে একটু গদ গদ ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে….মনে মনে শ্রাগ করে বললাম, চলুক আরেকটু প্ররোচনা…..কি এনেছি অনুমান কর!!!
“আচ্ছা দাড়ান চিন্তা করি, আপনি আমার জন্য অবশ্যই থাই ভালবাসা এনেছেন সাথে নিশ্চুই চকোলেট?”
এমন চরম রোমান্টিসিজম তৈরী হবার মূহুর্তেই বেরসিকের মত হঠাৎ করেই উপর থেকে ডাক; সাবরিনা………….
যাহ!! এই সময় কেউ কাউরে ডাক দেয়……আঙ্কেল চলি বলে ইংগিতপূর্ণ হাসি দিয়ে চার চোখের সাবরিনার বিদায়……..ধ্যাৎ মেজাজটাই বিলা……..
সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে দৌড়….কয়েকদিনের জমে থাকা কাজে কখন ডুব দিয়েছি টের পাইনি….চোখের পলকে, কখন দুপুর-বিকাল-সন্ধ্যা হয়েছে দেখার ফুরসত পাইনি……..
আধো আলো-আধো আধারে যখন বাসায় ফিরছি রাস্তায় বাজতে থাকা “আমার সারটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম” গানের লাইনটা শুনে সারাদিনের ক্লান্তি কোথায় যে হারাল……….
“আম্মু আপনার জন্য পাঠিয়েছে”…..
প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে বাটিটি গ্রহণ করে দেখি কাঠাল, উফ!! আমার অপছন্দের ফল…..হাসি মুখে বললাম থ্যাঙ্কু……খুব খিদা পেয়েছিল……
“ভাইয়া; আমার জন্য কি নিয়ে এসছেন”
একটু অবাক হয়ে শুধালাম…কি ব্যাপার আঙ্কেল থেকে ভাইয়া হলাম কখন….
“সঙ্গে সঙ্গে স্যরি আঙ্কেল বলে দন্তপাটি বিকশিত করল”
যা শালা!!! ভাইয়া ডাকটাইতো ঠিক ছিল….মেজাজটা তিরিক্ষী হতে হতে ম্যানেজ করে হাসি মুখে বললাম…..এনেছি একটা কিছু কিন্তু এখন দিবনা….
“বলেননা….কি এনেছেন….প্লীজ……”
তোমার পছন্দের জিনিস…….
“ডিটেইলস বলেন, আমি কাউকে বলবনা!!”
প্ররোচিত করার প্রচেষ্টা দেখে একটু অবাক হলাম, তার আচরনে একটু গদ গদ ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে….মনে মনে শ্রাগ করে বললাম, চলুক আরেকটু প্ররোচনা…..কি এনেছি অনুমান কর!!!
“আচ্ছা দাড়ান চিন্তা করি, আপনি আমার জন্য অবশ্যই থাই ভালবাসা এনেছেন সাথে নিশ্চুই চকোলেট?”
এমন চরম রোমান্টিসিজম তৈরী হবার মূহুর্তেই বেরসিকের মত হঠাৎ করেই উপর থেকে ডাক; সাবরিনা………….
যাহ!! এই সময় কেউ কাউরে ডাক দেয়……আঙ্কেল চলি বলে ইংগিতপূর্ণ হাসি দিয়ে চার চোখের সাবরিনার বিদায়……..ধ্যাৎ মেজাজটাই বিলা……..
সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে দৌড়….কয়েকদিনের জমে থাকা কাজে কখন ডুব দিয়েছি টের পাইনি….চোখের পলকে, কখন দুপুর-বিকাল-সন্ধ্যা হয়েছে দেখার ফুরসত পাইনি……..
আধো আলো-আধো আধারে যখন বাসায় ফিরছি রাস্তায় বাজতে থাকা “আমার সারটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম” গানের লাইনটা শুনে সারাদিনের ক্লান্তি কোথায় যে হারাল……….
Sunday, June 28, 2009
দিনের পর দিন, ২৩ বৈশাখ ১৪১৬ (প্রত্যাবর্তন…..)
বাঙ্গালি হইয়া জন্মানোর ইহা এক জ্বালা…অল্পতেই সব কিছুর প্রতি প্রগাঢ মায়া তৈরী হয়…এয়ারপোর্টের যত কাছা কাছি পৌছাছি তত মায়া বাড়ছে হোটেলের হাসিমুখে রিসিপশনে দাড়িয়ে থাকা মেয়েটির জন্য…মায়া হচ্ছে খুব বিনয়ের সঙ্গে রুম সার্ভিস প্রদান করা ছেলেটির জন্য…মায়া হচ্ছে রাতের বেলায় উদভ্রান্ত আমায় কটেজে ফেরার পথ দেখিয়ে দেয়া নাইট গার্ডটির জন্য…আমরা অতি আবেগী জাতী অল্পতেই প্রত্যাশার বলয় তৈরী করি আবার খুব দ্রুত আশাহত হই………..
আহা!! কয়েকদিনের রিলাক্সিং সময়টি কত দ্রুত কেটে গেল…আবার নামতে হবে জীবন যুদ্ধে!!!…এয়ারপোর্টে পৌছে দ্রুত চেক-ইন করেই, ডিউটি ফ্রী শপে ঢু দিলাম….ফ্রী শব্দটা শুনলেই একটা চার্ম জাগে কিন্তু ডিউটি ফ্রী শপ বাশ খাবার একটা ভাল জায়গাও বটে…প্রথমেই ডিস্টিলার শপে ঢু দিলাম, দুষ্ট বন্ধুদের সূরার তৃষ্ঞা নিবারনের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে শপে ঢুকার পূর্বে অবশিষ্ট বাথ সমূহ হিসেব করে দেখলাম; এ বাজেটে লন্ডন ড্রাই জিনে কাভার হবেনা তাই ফিনল্যান্ডের চমৎকার মোরকের ভদকা এবং ট্রিপল ফাইভের কার্টনটি প্যাকেটজাত করেই ওয়েটিং লাউঞ্জে পৌছুলাম…সাধারণত ঢাকা টু ব্যাংকক ফ্লাইট দেশী-বিদেশী যাত্রীর মধ্যে সংখ্যার একটি ব্যালেন্স থাকে তবে আজকে বিদেশ ফেরত দেশী যাত্রীতে লাউঞ্জ পূর্ণ…হঠাৎ করে মনে হতে পারে ইহা বাংলাদেশের কোন বাস স্ট্যান্ড…বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় যাত্রীদের মধ্যে তুমুল গল্প…কিছুক্ষন পর নাদুস নুদুস স্বাস্থ্যবতি নারী ইমিগ্রেশন অফিসার পর্যবেক্ষনে আসল, হঠাৎ করে লাউঞ্জে পিন পতন নিরাবতা নামল; মনে হলো আমি সেই ছোট বেলার কোন ক্লাস রুমে হঠাৎ করে টিচার পৌছুলে যেমন ক্লাস রুমে নিরাবতা নামত…বেচারির পর্যবেক্ষন বেশীক্ষন চলেনি, শত শত হা করা স্ক্যানিং দৃষ্টির সামনে থেকে সরে পরে বাচল…হাতে প্রায় ৪৫মি: আছে তাই ভাবলাম আলাপ জুড়ে দেই; গল্প করতে থাকা একটি জটলার কাছে গিয়ে বললাম;
ভাইয়েরা কেমন আছেন? কোন খান থেইকা ফিরলেন? হয়ত একটু দূরে দাড়িয়ে থাকার কারনে আমাকে ইন্ডিয়ান মনে করেছিল কিন্তু বাংলা শুনে প্রত্যেকের মুখে খৈ ফুটতে শুরু করল এবং আরো বড় জটলার সৃষ্টি হল…
হাউ কাউয়ের মধ্যে যতটুকু বুঝলাম বর্তমান চলমান বিশ্ব মন্দার কারনে মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর ও মালয়শিয়া থেকে তারা ফিরছে….কিছুক্ষন কথা বলার পর মোটামুটি ভাইস ভার্সা সিচুয়েশন তৈরী হল…আমি প্রশ্নকারির ভূমিকা নিলাম তারা সাক্ষাতকার দিচ্ছে তেমন পদ্ধতিতে যা জানলাম; কম্পানি ছাটাই করার কারনে দেশে ফিরে যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে এম্বাসিগুলা কোন সহযোগীতা করছেনা, নিজের জমানো টাকায় ফেরত যেতে হচ্ছে…৩/৪ লাখ টাকা খরচ করে কেউ কেউ মাত্র ৮ মাস হয়েছে গিয়েছে কিন্তু টাকা পাঠানো শুরু করতে না করতেই ফেরত আসতে হল…যে চুক্তি অনুসারে নেয়া হয়েছে তার মাত্র ৪৫/৫০ ভাগ সুবিধা তাদের প্রদান করা হত প্রভৃতি…যা নিয়মিত আমরা পত্রিকার পাতায় পড়ি….
জিজ্ঞেস করলাম; ইন্ডিয়ান শ্রমিকরাও কি ফিরে আসছে? তখন সবাই সমস্বরে বলল ভাই ইন্ডিয়ান শ্রমিকরা আছে আরামে; বিদেশে আসতে আমাদের চেয়ে অনেক কম খরচে আসে, চুক্তির সব সুযোগ সুবিধা পায়, এম্বাসি নিয়মিত খোজ খবর রাখে; সরকার তাদের প্রচুর সাপোর্ট দেয়, নিয়মিত ঐ দেশের সরাকার ও কম্পানির সঙ্গে তাদের এম্বাসিগুলো যোগাযোগ রাখে……
বিক্রোমপুরের ১৮/১৯ বছর বয়সি টগবগে মোস্তাককে জিজ্ঞেস করলাম বাড়িত গিয়া কি করবা; হাসি খুশি মুখটা হঠাৎ ম্লান হয়ে গেল “কি আর করমু আগে বাসের হেল্পারি করতাম, দেহি কামডা আবার পাই নাকি”…..
প্লেনে উঠতে উঠতে ফেরত আসা সবার জন্য হৃদয়টা মুচরে উঠল…বিপুল ধার-দেনা কিভাবে শোধ করবে? বিশাল বেকারত্বের মাঝে আবার কি কোন কাজ দ্রুত পাবে? অনিশ্চিত জীবনের আশঙ্কার দোলাচলে ধিরে ধিরে থাই এয়ারওয়েজের বিমানটি জিয়া আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে ল্যান্ড করল…………
আহা!! কয়েকদিনের রিলাক্সিং সময়টি কত দ্রুত কেটে গেল…আবার নামতে হবে জীবন যুদ্ধে!!!…এয়ারপোর্টে পৌছে দ্রুত চেক-ইন করেই, ডিউটি ফ্রী শপে ঢু দিলাম….ফ্রী শব্দটা শুনলেই একটা চার্ম জাগে কিন্তু ডিউটি ফ্রী শপ বাশ খাবার একটা ভাল জায়গাও বটে…প্রথমেই ডিস্টিলার শপে ঢু দিলাম, দুষ্ট বন্ধুদের সূরার তৃষ্ঞা নিবারনের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে শপে ঢুকার পূর্বে অবশিষ্ট বাথ সমূহ হিসেব করে দেখলাম; এ বাজেটে লন্ডন ড্রাই জিনে কাভার হবেনা তাই ফিনল্যান্ডের চমৎকার মোরকের ভদকা এবং ট্রিপল ফাইভের কার্টনটি প্যাকেটজাত করেই ওয়েটিং লাউঞ্জে পৌছুলাম…সাধারণত ঢাকা টু ব্যাংকক ফ্লাইট দেশী-বিদেশী যাত্রীর মধ্যে সংখ্যার একটি ব্যালেন্স থাকে তবে আজকে বিদেশ ফেরত দেশী যাত্রীতে লাউঞ্জ পূর্ণ…হঠাৎ করে মনে হতে পারে ইহা বাংলাদেশের কোন বাস স্ট্যান্ড…বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় যাত্রীদের মধ্যে তুমুল গল্প…কিছুক্ষন পর নাদুস নুদুস স্বাস্থ্যবতি নারী ইমিগ্রেশন অফিসার পর্যবেক্ষনে আসল, হঠাৎ করে লাউঞ্জে পিন পতন নিরাবতা নামল; মনে হলো আমি সেই ছোট বেলার কোন ক্লাস রুমে হঠাৎ করে টিচার পৌছুলে যেমন ক্লাস রুমে নিরাবতা নামত…বেচারির পর্যবেক্ষন বেশীক্ষন চলেনি, শত শত হা করা স্ক্যানিং দৃষ্টির সামনে থেকে সরে পরে বাচল…হাতে প্রায় ৪৫মি: আছে তাই ভাবলাম আলাপ জুড়ে দেই; গল্প করতে থাকা একটি জটলার কাছে গিয়ে বললাম;
ভাইয়েরা কেমন আছেন? কোন খান থেইকা ফিরলেন? হয়ত একটু দূরে দাড়িয়ে থাকার কারনে আমাকে ইন্ডিয়ান মনে করেছিল কিন্তু বাংলা শুনে প্রত্যেকের মুখে খৈ ফুটতে শুরু করল এবং আরো বড় জটলার সৃষ্টি হল…
হাউ কাউয়ের মধ্যে যতটুকু বুঝলাম বর্তমান চলমান বিশ্ব মন্দার কারনে মালদ্বীপ, সিঙ্গাপুর ও মালয়শিয়া থেকে তারা ফিরছে….কিছুক্ষন কথা বলার পর মোটামুটি ভাইস ভার্সা সিচুয়েশন তৈরী হল…আমি প্রশ্নকারির ভূমিকা নিলাম তারা সাক্ষাতকার দিচ্ছে তেমন পদ্ধতিতে যা জানলাম; কম্পানি ছাটাই করার কারনে দেশে ফিরে যাচ্ছে, এ ক্ষেত্রে এম্বাসিগুলা কোন সহযোগীতা করছেনা, নিজের জমানো টাকায় ফেরত যেতে হচ্ছে…৩/৪ লাখ টাকা খরচ করে কেউ কেউ মাত্র ৮ মাস হয়েছে গিয়েছে কিন্তু টাকা পাঠানো শুরু করতে না করতেই ফেরত আসতে হল…যে চুক্তি অনুসারে নেয়া হয়েছে তার মাত্র ৪৫/৫০ ভাগ সুবিধা তাদের প্রদান করা হত প্রভৃতি…যা নিয়মিত আমরা পত্রিকার পাতায় পড়ি….
জিজ্ঞেস করলাম; ইন্ডিয়ান শ্রমিকরাও কি ফিরে আসছে? তখন সবাই সমস্বরে বলল ভাই ইন্ডিয়ান শ্রমিকরা আছে আরামে; বিদেশে আসতে আমাদের চেয়ে অনেক কম খরচে আসে, চুক্তির সব সুযোগ সুবিধা পায়, এম্বাসি নিয়মিত খোজ খবর রাখে; সরকার তাদের প্রচুর সাপোর্ট দেয়, নিয়মিত ঐ দেশের সরাকার ও কম্পানির সঙ্গে তাদের এম্বাসিগুলো যোগাযোগ রাখে……
বিক্রোমপুরের ১৮/১৯ বছর বয়সি টগবগে মোস্তাককে জিজ্ঞেস করলাম বাড়িত গিয়া কি করবা; হাসি খুশি মুখটা হঠাৎ ম্লান হয়ে গেল “কি আর করমু আগে বাসের হেল্পারি করতাম, দেহি কামডা আবার পাই নাকি”…..
প্লেনে উঠতে উঠতে ফেরত আসা সবার জন্য হৃদয়টা মুচরে উঠল…বিপুল ধার-দেনা কিভাবে শোধ করবে? বিশাল বেকারত্বের মাঝে আবার কি কোন কাজ দ্রুত পাবে? অনিশ্চিত জীবনের আশঙ্কার দোলাচলে ধিরে ধিরে থাই এয়ারওয়েজের বিমানটি জিয়া আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে ল্যান্ড করল…………
Monday, May 18, 2009
দিনের পর দিন, ২২ বৈশাখ ১৪১৬ (রোমান্সেও বাণিজ্য!!!…..)
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই পড়ি-মরি করে বাংককে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বেড় হলাম নাস্তার উদ্দ্যেশে, ঝটপট নাস্তা করে দে ছুট…রিসোর্টের গাড়িতে করে ক্রুজ শীপে পৌছানোর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ছেড়ে দিল…
বান-পা-পীরে পৌছেই টেক্সি পেলাম মাত্র আঠারশ বাথে, তার মানে আসার সময় ট্যুর গাইড অতিরিক্ত বারোশত বাথ সার্ভিস চার্জ হিসেবে নিয়েছে…আফসোস হল ইশ!! বাইরে থেকে টেক্সি নিলে এই গচ্চা দিতে হতনা…আসার সময় গাড়ি এবার অটো-অয়ে নামক ভিন্ন রাস্তা দিয়ে আসল…ছয়লেন বিশিষ্ট রাস্তাটি খুবই মসৃন…রাজধানী ব্যাংককে পৌছানোর বিভিন্ন পথ থাকার কারনে রাস্তার উপর চাপ বা যানজট নেই বললেই চলে…
ব্যাংকক পৌছেই এক বয়স্ক আত্মীয়ের জন্য ঔষধ কেনার জন্য ছুটলাম…আমাদের এই এক রোগ বিদেশি ঔষুধের উপর অগাধ আস্থা নিশ্চিতভাবে একই গ্রুপের ঔষুধ বাংলাদেশী কম্পানীগুলা তৈরী করছে, বিদেশে রপ্তানী করছে কিন্তু দেশী জিনিসের উপর আস্থার বড়ই অভাব……….
হোটেল থেকে সন্ধ্যায় ফ্রেস হয়ে বেড় হওয়ার পর দেখি দলে দলে লোকজন থাই ফ্ল্যাগ ও ফুল নিয়ে চলাচল করছে…জিজ্ঞেস করতেই জানলাম আজ থাই রাজার সিংহাসন আরোহন দিবস তাই সবাই রাজ প্রাসাদের সম্মুখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে….রাজকীয় অনুষ্ঠান দেখার খায়েস নিয়ে তাদের সঙ্গে রওনা হলাম…হোটেল থেকে সামান্য দূরত্বে রাজ প্রাসাদের সামনে বিশাল কনসার্ট ও লোকে লোকারণ্য অবস্থা…থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের বিশাল ঢল ও স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেখে বুঝা যায়; থাইরা তাদের রাজাকে প্রচন্ড সম্মান ও ভক্তি করে…রাস্তার এক প্রান্তে থাই ট্রাডিশনাল মিউজিকের ওপেন এয়ার কনসার্ট চলছে…জাতীয় সংগীতের পর পর পর আতশ বাজির ফোয়ারা শুরু হল, সারা আকাশ জুড়ে শুধু আলোর মেলা………
কিছু পর কাওসান রোডে এসে ব্যাংককে শেষ রাতটি উদযাপনের উদ্দ্যেশে শীষা ও পানিয়ের অর্ডার দিলাম…পর পর চারটি টাকিলা শট গলধ:করন করার পর, রোমান্টিক মুড আসল..সামনেই ঝাকানাকা টাইপের এক ওয়েটট্রেস, ভাব জমানোর জন্য কিছুক্ষন চোখা চোখি করে হাই বলতেই এগিয়ে আসলো….ড্রিংক অফার করলাম…ভিতর থেকে ড্রিংক এনে বসল…ইংরেজী ও থাই ভাষায় গল্প জুড়ে দিলাম…আমি কি বলছি সে বুঝতে পারছে না আর সে কি বলছে আমি বুঝতে পারছিনা…তবে দু’জনেই আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর খেলা করছি…দেখলাম কিছুক্ষন পর পর ড্রিংক নেয়ার জন্য উঠছে সন্দেহ জনক!!! বললাম, তুমি আমার ড্রিংক খাও আমি তোমার ড্রিংক খাব…গ্লাস চেন্জ করে তো পুরা টাসকি; সে এতক্ষন ধরে “জাস্ট ওয়াটার” পান করছিল…বিল দিতে গিয়ে দেখি শুধু তার পানির মূল্য বাবদ বিল হইয়াছে আটশত বাথ!!! যা শালা!! কোন কিছুইতো দেখি ফ্রী নাই…ছোট খাট রোমান্সেও মহা বাণিজ্য!!!…….
বান-পা-পীরে পৌছেই টেক্সি পেলাম মাত্র আঠারশ বাথে, তার মানে আসার সময় ট্যুর গাইড অতিরিক্ত বারোশত বাথ সার্ভিস চার্জ হিসেবে নিয়েছে…আফসোস হল ইশ!! বাইরে থেকে টেক্সি নিলে এই গচ্চা দিতে হতনা…আসার সময় গাড়ি এবার অটো-অয়ে নামক ভিন্ন রাস্তা দিয়ে আসল…ছয়লেন বিশিষ্ট রাস্তাটি খুবই মসৃন…রাজধানী ব্যাংককে পৌছানোর বিভিন্ন পথ থাকার কারনে রাস্তার উপর চাপ বা যানজট নেই বললেই চলে…
ব্যাংকক পৌছেই এক বয়স্ক আত্মীয়ের জন্য ঔষধ কেনার জন্য ছুটলাম…আমাদের এই এক রোগ বিদেশি ঔষুধের উপর অগাধ আস্থা নিশ্চিতভাবে একই গ্রুপের ঔষুধ বাংলাদেশী কম্পানীগুলা তৈরী করছে, বিদেশে রপ্তানী করছে কিন্তু দেশী জিনিসের উপর আস্থার বড়ই অভাব……….
হোটেল থেকে সন্ধ্যায় ফ্রেস হয়ে বেড় হওয়ার পর দেখি দলে দলে লোকজন থাই ফ্ল্যাগ ও ফুল নিয়ে চলাচল করছে…জিজ্ঞেস করতেই জানলাম আজ থাই রাজার সিংহাসন আরোহন দিবস তাই সবাই রাজ প্রাসাদের সম্মুখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে….রাজকীয় অনুষ্ঠান দেখার খায়েস নিয়ে তাদের সঙ্গে রওনা হলাম…হোটেল থেকে সামান্য দূরত্বে রাজ প্রাসাদের সামনে বিশাল কনসার্ট ও লোকে লোকারণ্য অবস্থা…থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের বিশাল ঢল ও স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেখে বুঝা যায়; থাইরা তাদের রাজাকে প্রচন্ড সম্মান ও ভক্তি করে…রাস্তার এক প্রান্তে থাই ট্রাডিশনাল মিউজিকের ওপেন এয়ার কনসার্ট চলছে…জাতীয় সংগীতের পর পর পর আতশ বাজির ফোয়ারা শুরু হল, সারা আকাশ জুড়ে শুধু আলোর মেলা………
কিছু পর কাওসান রোডে এসে ব্যাংককে শেষ রাতটি উদযাপনের উদ্দ্যেশে শীষা ও পানিয়ের অর্ডার দিলাম…পর পর চারটি টাকিলা শট গলধ:করন করার পর, রোমান্টিক মুড আসল..সামনেই ঝাকানাকা টাইপের এক ওয়েটট্রেস, ভাব জমানোর জন্য কিছুক্ষন চোখা চোখি করে হাই বলতেই এগিয়ে আসলো….ড্রিংক অফার করলাম…ভিতর থেকে ড্রিংক এনে বসল…ইংরেজী ও থাই ভাষায় গল্প জুড়ে দিলাম…আমি কি বলছি সে বুঝতে পারছে না আর সে কি বলছে আমি বুঝতে পারছিনা…তবে দু’জনেই আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর খেলা করছি…দেখলাম কিছুক্ষন পর পর ড্রিংক নেয়ার জন্য উঠছে সন্দেহ জনক!!! বললাম, তুমি আমার ড্রিংক খাও আমি তোমার ড্রিংক খাব…গ্লাস চেন্জ করে তো পুরা টাসকি; সে এতক্ষন ধরে “জাস্ট ওয়াটার” পান করছিল…বিল দিতে গিয়ে দেখি শুধু তার পানির মূল্য বাবদ বিল হইয়াছে আটশত বাথ!!! যা শালা!! কোন কিছুইতো দেখি ফ্রী নাই…ছোট খাট রোমান্সেও মহা বাণিজ্য!!!…….
Saturday, May 16, 2009
কি চমৎকার!!!
আজ দুপুরে এক বন্ধু মেইল করল ভিডিও লিংকটি…..মুগ্ধ বিস্ময়ে দেখলাম…….অসাধারণ কথা ও সুর, চমৎকার গলা এবং ফাটাফাটি উপস্থাপনা….
ডেকলান গালব্রেইথ নামক এই ক্ষুদে গায়কটি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্ম গ্রহণ করে….এ পর্যন্ত তার তিনটি এ্যালবাম বেড়িয়েছে…
ডেকলান গালব্রেইথ নামক এই ক্ষুদে গায়কটি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্ম গ্রহণ করে….এ পর্যন্ত তার তিনটি এ্যালবাম বেড়িয়েছে…
Friday, May 15, 2009
দিনের পর দিন; ২১ বৈশাখ ১৪১৬ (একটি ট্রাক ও পেটি)
গত রাতের পার্টি আমেজ এখনো মন ও শরীর জুড়ে ছড়িয়ে আছে…ঘুম থেকে উঠে বিছানায় গড়াগড়ি করে সকাল-দুপুর পাড় করলাম…বাইরে প্রচন্ড রোদ ও গরমে বেড় হতে ইচ্ছে করছিল না…টিভি অন করে থাই চ্যানেল গুলা দেখছি; ভাষা বুঝা যাচ্ছেনা তবে খুব ফাস্ট উপস্থাপনা…ইউনিলিভারের ক্লোজ-আপ টুথ পেষ্টের বিজ্ঞাপন; থাই মডেল এবং থাই মিউজিক…অথচ একই বিজ্ঞাপন বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে দেখায়, যেখানে ইন্ডিয়ান মডেল ও বাংলায় ইন্ডিয়ান মিউজিক ডাবিং করা…থাইরা বহুজাতীক কম্পানিগুলার নিতিমালার ক্ষেত্রে ঠিকিই দেশীয় মডেল এবং উপাদান ব্যবহার করার শর্তারোপ করেছে আর প্রতিদিন বিভিন্ন মোরকে আমাদের দেশটি বিদেশী বেনিয়াদের দখলে যাচ্ছে…কবে আমাদের দেশপ্রেমিক!!! নেতৃবৃন্দের বোধদয় হবে? জাতীয় স্বার্থ ও কৃষ্টি কে উর্ধ্বে তুলে না ধরতে পারলে এক সময় নিজস্বতা বলে তো কিছুই থাকবেনা…
বিকেলে সাগর সৈকত ভ্রমনে বেড় হলাম, আজ শেষদিন তাই মোটা মুটি একটা ঘুরন্তিস হবে…যেতে যেতে বন্ধুকে শুধালাম;
রাতে তোমার ঠাস ঠুশ শব্দে তো এলাকা আতঙ্কগ্রস্থ ছিল….
“বুঝতে না পেরে বলল; ঠাস ঠুশ মানে কি”
হাসতে হাসতে বললাম সারা রাত আমার নাক চেপে ঘুমাতে হল…
“এই বার বন্ধু অট্ট হাসি দিয়ে বলল, এইটা হল আমার সিগনেচার টিউন; তাৎক্ষনিক সশব্দে একটা ছাড়ল”
দূর হ! আজকে তুমি বারান্দায় ঘুমাবা….
“বন্ধু এবার আমাকে বলল, তোমার কি শাস্তি হওয়া উচিৎ, কারন তুমি সারা রাত ভূমিকম্পের মত করে নাক ডেকেছ”
বললাম, হা হা হা আর বলনা, তোমার ঠাস ঠুশ শব্দের জ্বালায় নাক ডাকতে হয়েছে….
সন্ধ্যায় দ্বীপটিতে প্রচুর থাই মানুষে সয়লাব দেখলাম…ছুটির কারনে থাই পর্যটক এসেছে বেড়াতে…বুঝা যাচ্ছে থাইদের আয় বাড়ছে যার ফলে বিনোদনের খাতে ব্যায় করতে পারছে…আমার ব্লগকে মিস করছিলাম তাই সাইবার ক্যাফেতে ঢু মারলাম কিন্তু সব কয়টা ফুল, কিছুক্ষন অপেক্ষার পর একটা ফ্রী পেয়ে ব্রাউজিং শুরু করলাম; জাষ্ট টাইপ করে ক্লীক করতেই ব্লগ খুলল; দ্বীপেই নেট স্পীড ৮০০কে.বি.পি.এস…বন্ধু টাকা তোলার জন্য এ.টি.এম বুথে গেল, যেখানে সেখানে বুথ…উন্নয়নের ছোয়া সব জায়গায়, খুব দ্রুত থাই অর্থনীতি সামনে এগুচ্ছে…থাইরা আগের চেয়ে অনেক বেশী নিয়ম তান্ত্রীক হয়েছে…এ প্রসঙ্গে থাইল্যান্ডে আসার আগের একটা ঘটনা মনে পড়ল, টিভিতে তাদের চলমান রাজনৈতিক সংকট দেখাচ্ছিল; ক্ষমতাসিন ও বিরোধীদলের সমর্থকরা লাল ও নীল গেন্জী পরে মুখোমুখি বিক্ষোভ করছিল…তখন আমার এক কলিগ মন্তব্য করেছিল; “দারুন তো!! জার্সী পরে মারা মারি”….আমাদের দেশের রাজনীতিতেও এইটা চালু করা উচিৎ…….
রাতে কটেজে ফিরে বন্ধুর ইন্ট্যারন্যাশনাল ফোন দিয়ে, বাংলাদেশের পরিচিতদের ফোন দিলাম…শেষ কলটি সদ্য পুলিশে যোগ দেয়া বন্ধু আসাদ’কে;
হ্যালো: মি: আসাদ স্পিকিং? আই এম কলিং ফ্রম ইন্টারপোল….
“উত্তরে বলল: ইন্টারপোলের বাপ কইতাছি…দোস্ত তোমারে চিনছি”
জিগাইলাম হাতে খড়ি কেমন চলতাছে….
“আর বইলনা; পুলিশে ভাল লাগতাছে না”
ক্যান পুলিশেই তো মজা, জনগণরে আচ্ছা মত ডান্ডা পেটানোর সুযোগ পাইছ!!!
“দোস্ত সারা জীবন মিথ্যা কই নাই, ঘুষ খাওয়াতো পরের ব্যাপার…কিন্তু সিস্টেমটাই এমন ঘুষ আর মিথ্যা না কইলে বেশী বিপদ”
কেন কি হইছে?
“তুমি তো জান আমার প্রথম পোষ্টিং ধানমন্ডি থানায় হইছিল, কিন্তু সিস্টেম মেইনটেইন না করার কারনে গত সপ্তাহে যাত্রাবাড়ি থানায় ট্রান্সফার করছে…ভয়ে ছিলাম খাগড়াছরি না আবার পাঠায় দ্যায়”
তো ঘুষ খাইতে কেমন মজা পাইতাছ?
“পুরাপুরি অভ্যাস হয় নাই; তো টেস্ট ভাল….”
কেমনে কি?
“গত পরশু একটা ট্রাক ধরা মিশনে ছিলাম, ইন্ডিয়ান মাল ছিল…১প্যাটিতে ছাড় পাইছে, উপরে নিচের চ্যানেল মেইনটেইন কইরা আমারে ৩৫ দিছে”
আরো কিছুক্ষন এগারা বেগারা আলাপ শেষ করে, ফোনটা রেখে; মনটা খারাপ হয়ে গেলো…সব চেয়ে ভদ্র, অমায়িক, সৎ বন্ধুটির এমন পরিনতি তীব্র মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিল……….
বিকেলে সাগর সৈকত ভ্রমনে বেড় হলাম, আজ শেষদিন তাই মোটা মুটি একটা ঘুরন্তিস হবে…যেতে যেতে বন্ধুকে শুধালাম;
রাতে তোমার ঠাস ঠুশ শব্দে তো এলাকা আতঙ্কগ্রস্থ ছিল….
“বুঝতে না পেরে বলল; ঠাস ঠুশ মানে কি”
হাসতে হাসতে বললাম সারা রাত আমার নাক চেপে ঘুমাতে হল…
“এই বার বন্ধু অট্ট হাসি দিয়ে বলল, এইটা হল আমার সিগনেচার টিউন; তাৎক্ষনিক সশব্দে একটা ছাড়ল”
দূর হ! আজকে তুমি বারান্দায় ঘুমাবা….
“বন্ধু এবার আমাকে বলল, তোমার কি শাস্তি হওয়া উচিৎ, কারন তুমি সারা রাত ভূমিকম্পের মত করে নাক ডেকেছ”
বললাম, হা হা হা আর বলনা, তোমার ঠাস ঠুশ শব্দের জ্বালায় নাক ডাকতে হয়েছে….
সন্ধ্যায় দ্বীপটিতে প্রচুর থাই মানুষে সয়লাব দেখলাম…ছুটির কারনে থাই পর্যটক এসেছে বেড়াতে…বুঝা যাচ্ছে থাইদের আয় বাড়ছে যার ফলে বিনোদনের খাতে ব্যায় করতে পারছে…আমার ব্লগকে মিস করছিলাম তাই সাইবার ক্যাফেতে ঢু মারলাম কিন্তু সব কয়টা ফুল, কিছুক্ষন অপেক্ষার পর একটা ফ্রী পেয়ে ব্রাউজিং শুরু করলাম; জাষ্ট টাইপ করে ক্লীক করতেই ব্লগ খুলল; দ্বীপেই নেট স্পীড ৮০০কে.বি.পি.এস…বন্ধু টাকা তোলার জন্য এ.টি.এম বুথে গেল, যেখানে সেখানে বুথ…উন্নয়নের ছোয়া সব জায়গায়, খুব দ্রুত থাই অর্থনীতি সামনে এগুচ্ছে…থাইরা আগের চেয়ে অনেক বেশী নিয়ম তান্ত্রীক হয়েছে…এ প্রসঙ্গে থাইল্যান্ডে আসার আগের একটা ঘটনা মনে পড়ল, টিভিতে তাদের চলমান রাজনৈতিক সংকট দেখাচ্ছিল; ক্ষমতাসিন ও বিরোধীদলের সমর্থকরা লাল ও নীল গেন্জী পরে মুখোমুখি বিক্ষোভ করছিল…তখন আমার এক কলিগ মন্তব্য করেছিল; “দারুন তো!! জার্সী পরে মারা মারি”….আমাদের দেশের রাজনীতিতেও এইটা চালু করা উচিৎ…….
রাতে কটেজে ফিরে বন্ধুর ইন্ট্যারন্যাশনাল ফোন দিয়ে, বাংলাদেশের পরিচিতদের ফোন দিলাম…শেষ কলটি সদ্য পুলিশে যোগ দেয়া বন্ধু আসাদ’কে;
হ্যালো: মি: আসাদ স্পিকিং? আই এম কলিং ফ্রম ইন্টারপোল….
“উত্তরে বলল: ইন্টারপোলের বাপ কইতাছি…দোস্ত তোমারে চিনছি”
জিগাইলাম হাতে খড়ি কেমন চলতাছে….
“আর বইলনা; পুলিশে ভাল লাগতাছে না”
ক্যান পুলিশেই তো মজা, জনগণরে আচ্ছা মত ডান্ডা পেটানোর সুযোগ পাইছ!!!
“দোস্ত সারা জীবন মিথ্যা কই নাই, ঘুষ খাওয়াতো পরের ব্যাপার…কিন্তু সিস্টেমটাই এমন ঘুষ আর মিথ্যা না কইলে বেশী বিপদ”
কেন কি হইছে?
“তুমি তো জান আমার প্রথম পোষ্টিং ধানমন্ডি থানায় হইছিল, কিন্তু সিস্টেম মেইনটেইন না করার কারনে গত সপ্তাহে যাত্রাবাড়ি থানায় ট্রান্সফার করছে…ভয়ে ছিলাম খাগড়াছরি না আবার পাঠায় দ্যায়”
তো ঘুষ খাইতে কেমন মজা পাইতাছ?
“পুরাপুরি অভ্যাস হয় নাই; তো টেস্ট ভাল….”
কেমনে কি?
“গত পরশু একটা ট্রাক ধরা মিশনে ছিলাম, ইন্ডিয়ান মাল ছিল…১প্যাটিতে ছাড় পাইছে, উপরে নিচের চ্যানেল মেইনটেইন কইরা আমারে ৩৫ দিছে”
আরো কিছুক্ষন এগারা বেগারা আলাপ শেষ করে, ফোনটা রেখে; মনটা খারাপ হয়ে গেলো…সব চেয়ে ভদ্র, অমায়িক, সৎ বন্ধুটির এমন পরিনতি তীব্র মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিল……….
Subscribe to:
Comments (Atom)