Wednesday, July 1, 2009

দিনের পর দিন, ১৪ আষাঢ় ১৪১৬ (শতত, হে নদ…..)

আমার পাঁচ ভাগ্নীদের শাসনের যন্ত্রনায় মাঝে মাঝে ফোন অফ করে রাখতে হয়…মেঝো বোনের মেয়ে মিথিলা আবার আমার মায়ের ভূমিকা পালন করে…ফোন করে খাইছি কিনা, গোসল করছি কিনা, সারাদিন কি করলাম এই সব তথ্য তারে রিপোর্ট করতে হয়…….

সকালে অফিসে যাচ্ছি; তখন ফোন করে বলল; মামা তোমার সব ভাগ্নীরা বেড়ানোর জন্য রওনা হচ্ছে তুমি রেডী হও…ঝকঝকে রোদে প্রচন্ড গরমে কাহিল অবস্থা…এই সময়ে ভাগ্নীদের কিভাবে ঘুরন্তিস করামু এই নিয়া টেনশন…তাও আবার একদিনের মধ্যে সব কাভার করতে হইবেক…ঠিক করলাম ছোট বেলার বইয়ে পড়া মহাকবি মাইকেল মধূসূদনের জন্মস্থান সাগড়দারি ও কপোতাক্ষ নদ হউক ভ্রমনের স্থান…সবগুলা ঢাকা থেইকা হৈ চৈ করতে করতে সন্ধ্যায় হাজির…….

সক্কাল বেলা কেও-মেও; হৈ চৈ এর মধ্যে ঘুম থেইকা উইঠা দিলাম রওনা…পুরা গাড়ি জুড়ে হাসির গড়া গড়ি, কথার ফোয়ারা…দেখতে ভাল লাগছে, পিচ্চি ভাগ্নীগুলা কত দ্রুত বড় হয়ে যায়…যখন সাগড়দারি পৌছুলাম কাঠফাটা রোদ…কয়েক বছর আগে যখন এসেছিলাম তার চেয়ে কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধন চোখে পরল…রাস্তাঘাট আগের তুলনায় ভাল হয়েছে, কবির বসতভীটাটি আরো অর্গানাইজড ও সংরক্ষিত হয়েছে…

ঘুরা ফেরা শেষে বললাম চল কপোতাক্ষ নদ দেখে আসি আর লাঞ্চটা সেরে ফেলি…হৈ চৈ গল্প করতে থাকা ভাগ্নীগুলা নদীর কাছে এসে তো মহা হতাশ ”মামা এটা বইয়ে পড়া কপতাক্ষ নদ?”…নদের অবস্থা দেখে আমি তখন চরম শকড, কুচুরীপানা পূর্ণ নদ দেখে বোঝার উপায় নেই এক সময় মহাকবি ফ্রান্সের ভার্সেইলেসে বসে রচনা করেছিলেন শতত, হে নদ…..|

No comments: