গত রাতের পার্টি আমেজ এখনো মন ও শরীর জুড়ে ছড়িয়ে আছে…ঘুম থেকে উঠে বিছানায় গড়াগড়ি করে সকাল-দুপুর পাড় করলাম…বাইরে প্রচন্ড রোদ ও গরমে বেড় হতে ইচ্ছে করছিল না…টিভি অন করে থাই চ্যানেল গুলা দেখছি; ভাষা বুঝা যাচ্ছেনা তবে খুব ফাস্ট উপস্থাপনা…ইউনিলিভারের ক্লোজ-আপ টুথ পেষ্টের বিজ্ঞাপন; থাই মডেল এবং থাই মিউজিক…অথচ একই বিজ্ঞাপন বাংলাদেশের বিভিন্ন চ্যানেলে দেখায়, যেখানে ইন্ডিয়ান মডেল ও বাংলায় ইন্ডিয়ান মিউজিক ডাবিং করা…থাইরা বহুজাতীক কম্পানিগুলার নিতিমালার ক্ষেত্রে ঠিকিই দেশীয় মডেল এবং উপাদান ব্যবহার করার শর্তারোপ করেছে আর প্রতিদিন বিভিন্ন মোরকে আমাদের দেশটি বিদেশী বেনিয়াদের দখলে যাচ্ছে…কবে আমাদের দেশপ্রেমিক!!! নেতৃবৃন্দের বোধদয় হবে? জাতীয় স্বার্থ ও কৃষ্টি কে উর্ধ্বে তুলে না ধরতে পারলে এক সময় নিজস্বতা বলে তো কিছুই থাকবেনা…
বিকেলে সাগর সৈকত ভ্রমনে বেড় হলাম, আজ শেষদিন তাই মোটা মুটি একটা ঘুরন্তিস হবে…যেতে যেতে বন্ধুকে শুধালাম;
রাতে তোমার ঠাস ঠুশ শব্দে তো এলাকা আতঙ্কগ্রস্থ ছিল….
“বুঝতে না পেরে বলল; ঠাস ঠুশ মানে কি”
হাসতে হাসতে বললাম সারা রাত আমার নাক চেপে ঘুমাতে হল…
“এই বার বন্ধু অট্ট হাসি দিয়ে বলল, এইটা হল আমার সিগনেচার টিউন; তাৎক্ষনিক সশব্দে একটা ছাড়ল”
দূর হ! আজকে তুমি বারান্দায় ঘুমাবা….
“বন্ধু এবার আমাকে বলল, তোমার কি শাস্তি হওয়া উচিৎ, কারন তুমি সারা রাত ভূমিকম্পের মত করে নাক ডেকেছ”
বললাম, হা হা হা আর বলনা, তোমার ঠাস ঠুশ শব্দের জ্বালায় নাক ডাকতে হয়েছে….
সন্ধ্যায় দ্বীপটিতে প্রচুর থাই মানুষে সয়লাব দেখলাম…ছুটির কারনে থাই পর্যটক এসেছে বেড়াতে…বুঝা যাচ্ছে থাইদের আয় বাড়ছে যার ফলে বিনোদনের খাতে ব্যায় করতে পারছে…আমার ব্লগকে মিস করছিলাম তাই সাইবার ক্যাফেতে ঢু মারলাম কিন্তু সব কয়টা ফুল, কিছুক্ষন অপেক্ষার পর একটা ফ্রী পেয়ে ব্রাউজিং শুরু করলাম; জাষ্ট টাইপ করে ক্লীক করতেই ব্লগ খুলল; দ্বীপেই নেট স্পীড ৮০০কে.বি.পি.এস…বন্ধু টাকা তোলার জন্য এ.টি.এম বুথে গেল, যেখানে সেখানে বুথ…উন্নয়নের ছোয়া সব জায়গায়, খুব দ্রুত থাই অর্থনীতি সামনে এগুচ্ছে…থাইরা আগের চেয়ে অনেক বেশী নিয়ম তান্ত্রীক হয়েছে…এ প্রসঙ্গে থাইল্যান্ডে আসার আগের একটা ঘটনা মনে পড়ল, টিভিতে তাদের চলমান রাজনৈতিক সংকট দেখাচ্ছিল; ক্ষমতাসিন ও বিরোধীদলের সমর্থকরা লাল ও নীল গেন্জী পরে মুখোমুখি বিক্ষোভ করছিল…তখন আমার এক কলিগ মন্তব্য করেছিল; “দারুন তো!! জার্সী পরে মারা মারি”….আমাদের দেশের রাজনীতিতেও এইটা চালু করা উচিৎ…….
রাতে কটেজে ফিরে বন্ধুর ইন্ট্যারন্যাশনাল ফোন দিয়ে, বাংলাদেশের পরিচিতদের ফোন দিলাম…শেষ কলটি সদ্য পুলিশে যোগ দেয়া বন্ধু আসাদ’কে;
হ্যালো: মি: আসাদ স্পিকিং? আই এম কলিং ফ্রম ইন্টারপোল….
“উত্তরে বলল: ইন্টারপোলের বাপ কইতাছি…দোস্ত তোমারে চিনছি”
জিগাইলাম হাতে খড়ি কেমন চলতাছে….
“আর বইলনা; পুলিশে ভাল লাগতাছে না”
ক্যান পুলিশেই তো মজা, জনগণরে আচ্ছা মত ডান্ডা পেটানোর সুযোগ পাইছ!!!
“দোস্ত সারা জীবন মিথ্যা কই নাই, ঘুষ খাওয়াতো পরের ব্যাপার…কিন্তু সিস্টেমটাই এমন ঘুষ আর মিথ্যা না কইলে বেশী বিপদ”
কেন কি হইছে?
“তুমি তো জান আমার প্রথম পোষ্টিং ধানমন্ডি থানায় হইছিল, কিন্তু সিস্টেম মেইনটেইন না করার কারনে গত সপ্তাহে যাত্রাবাড়ি থানায় ট্রান্সফার করছে…ভয়ে ছিলাম খাগড়াছরি না আবার পাঠায় দ্যায়”
তো ঘুষ খাইতে কেমন মজা পাইতাছ?
“পুরাপুরি অভ্যাস হয় নাই; তো টেস্ট ভাল….”
কেমনে কি?
“গত পরশু একটা ট্রাক ধরা মিশনে ছিলাম, ইন্ডিয়ান মাল ছিল…১প্যাটিতে ছাড় পাইছে, উপরে নিচের চ্যানেল মেইনটেইন কইরা আমারে ৩৫ দিছে”
আরো কিছুক্ষন এগারা বেগারা আলাপ শেষ করে, ফোনটা রেখে; মনটা খারাপ হয়ে গেলো…সব চেয়ে ভদ্র, অমায়িক, সৎ বন্ধুটির এমন পরিনতি তীব্র মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিল……….
No comments:
Post a Comment