সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই পড়ি-মরি করে বাংককে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বেড় হলাম নাস্তার উদ্দ্যেশে, ঝটপট নাস্তা করে দে ছুট…রিসোর্টের গাড়িতে করে ক্রুজ শীপে পৌছানোর মিনিট পাঁচেকের মধ্যে ছেড়ে দিল…
বান-পা-পীরে পৌছেই টেক্সি পেলাম মাত্র আঠারশ বাথে, তার মানে আসার সময় ট্যুর গাইড অতিরিক্ত বারোশত বাথ সার্ভিস চার্জ হিসেবে নিয়েছে…আফসোস হল ইশ!! বাইরে থেকে টেক্সি নিলে এই গচ্চা দিতে হতনা…আসার সময় গাড়ি এবার অটো-অয়ে নামক ভিন্ন রাস্তা দিয়ে আসল…ছয়লেন বিশিষ্ট রাস্তাটি খুবই মসৃন…রাজধানী ব্যাংককে পৌছানোর বিভিন্ন পথ থাকার কারনে রাস্তার উপর চাপ বা যানজট নেই বললেই চলে…
ব্যাংকক পৌছেই এক বয়স্ক আত্মীয়ের জন্য ঔষধ কেনার জন্য ছুটলাম…আমাদের এই এক রোগ বিদেশি ঔষুধের উপর অগাধ আস্থা নিশ্চিতভাবে একই গ্রুপের ঔষুধ বাংলাদেশী কম্পানীগুলা তৈরী করছে, বিদেশে রপ্তানী করছে কিন্তু দেশী জিনিসের উপর আস্থার বড়ই অভাব……….
হোটেল থেকে সন্ধ্যায় ফ্রেস হয়ে বেড় হওয়ার পর দেখি দলে দলে লোকজন থাই ফ্ল্যাগ ও ফুল নিয়ে চলাচল করছে…জিজ্ঞেস করতেই জানলাম আজ থাই রাজার সিংহাসন আরোহন দিবস তাই সবাই রাজ প্রাসাদের সম্মুখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে….রাজকীয় অনুষ্ঠান দেখার খায়েস নিয়ে তাদের সঙ্গে রওনা হলাম…হোটেল থেকে সামান্য দূরত্বে রাজ প্রাসাদের সামনে বিশাল কনসার্ট ও লোকে লোকারণ্য অবস্থা…থাইল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষের বিশাল ঢল ও স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেখে বুঝা যায়; থাইরা তাদের রাজাকে প্রচন্ড সম্মান ও ভক্তি করে…রাস্তার এক প্রান্তে থাই ট্রাডিশনাল মিউজিকের ওপেন এয়ার কনসার্ট চলছে…জাতীয় সংগীতের পর পর পর আতশ বাজির ফোয়ারা শুরু হল, সারা আকাশ জুড়ে শুধু আলোর মেলা………
কিছু পর কাওসান রোডে এসে ব্যাংককে শেষ রাতটি উদযাপনের উদ্দ্যেশে শীষা ও পানিয়ের অর্ডার দিলাম…পর পর চারটি টাকিলা শট গলধ:করন করার পর, রোমান্টিক মুড আসল..সামনেই ঝাকানাকা টাইপের এক ওয়েটট্রেস, ভাব জমানোর জন্য কিছুক্ষন চোখা চোখি করে হাই বলতেই এগিয়ে আসলো….ড্রিংক অফার করলাম…ভিতর থেকে ড্রিংক এনে বসল…ইংরেজী ও থাই ভাষায় গল্প জুড়ে দিলাম…আমি কি বলছি সে বুঝতে পারছে না আর সে কি বলছে আমি বুঝতে পারছিনা…তবে দু’জনেই আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর খেলা করছি…দেখলাম কিছুক্ষন পর পর ড্রিংক নেয়ার জন্য উঠছে সন্দেহ জনক!!! বললাম, তুমি আমার ড্রিংক খাও আমি তোমার ড্রিংক খাব…গ্লাস চেন্জ করে তো পুরা টাসকি; সে এতক্ষন ধরে “জাস্ট ওয়াটার” পান করছিল…বিল দিতে গিয়ে দেখি শুধু তার পানির মূল্য বাবদ বিল হইয়াছে আটশত বাথ!!! যা শালা!! কোন কিছুইতো দেখি ফ্রী নাই…ছোট খাট রোমান্সেও মহা বাণিজ্য!!!…….
No comments:
Post a Comment