সকালে ঘুম থেকে উঠেই এয়ারপোর্টে দৌড়…চেক-ইন করার পর দেখলাম বাহ!! দেশী অনেক যাত্রী…কিছু যাত্রী চিকিৎসার জন্য, কিছু ভেকেশনে আর বাকিরা ট্রানজিট যাত্রী…বিদেশে চিকিৎসাগামী এত রোগী দেখে প্রশ্ন জাগে বিদেশে কি দ্রুত আরোগ্য হওয়া যায়?…সামনে পিছনে ফ্লাট উইকেটের থাই এয়ার হোস্টেসের হাস্যজ্বল “সোয়াসদি” সম্ভাষনের মাধ্যমে এয়ার ক্রাফটে আরোহন…অডিও স্লেইভের “লাইকে স্টোন” গানটা ছেড়ে দিয়ে এয়ার ফোনটা কানে গূজে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলাম…খাবার দেয়ার পর ইন্টেরেস্টিং জিনিস লক্ষ্য করলাম মেডিক্যাল চেক-আপ করতে যাওয়া এক রোগী হালাল মিল খাওয়ার পর আরামসে হাইনিকিন পান করতাছে…আহা! হোয়াট এ উন্নতি “হালাল ফুড উইথ বিয়ার”……..
ঝা! চকচকে ব্যাংকক এয়ারপোর্টে নেমেই বারীধারার সাক্ষাত পেলাম…দির্ঘদিন বৃষ্টি দেখার জন্য ব্যাকুল আমি কিছুক্ষন তন্ময় হয়ে দেখার মাঝে বন্ধুর ফ্লাইট পৌছাল…চেক-আউট করে দু’জন ট্যাক্সি নিয়ে বাইরে আসতেই তিন বছর আগের ব্যাংকক’কে আরো বেশী আধূনিক ও ঝকঝকে মনে হল…ব্যাংককের বিখ্যাত সেই ট্রাফিক জ্যাম আর নেই, চারিদেকে উড়াল পুলের মেলা…টুকটুক নামের ত্রী-চক্রযানটি এবার চোখে না পড়ার মত কম সংখ্যায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলছে সেই তুলনায় ব্রান্ড নিউ ব্যাক্তিগত গাড়ির সংখ্যা প্রচুর বেড়েছে…কোন এক বইয়ে পড়েছিলাম কোন জাতীকে জানতে হলে তাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দেখ এবং কোন দেশের অর্থনীতির অগ্রগতী বুঝতে হলে সড়ক যোগাযোগ ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অবস্থা দেখ…চারপাশে তাকালে বুঝা যায় থাই অর্থনীতি খুব দ্রুত উন্নতি করছে…….
মন খারাপ হলো শুধু আমাদের দেশটাই একই অবস্থায় আছে আর আমাদের চেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগূলো ধুমাধুম এগিয়ে যাচ্ছে…কবে হবে সোনার বাংলাদেশ??? বাংলামপু’র ভিয়েনথাই হোটেলে চেক-ইন করেই খাওয়ার জন্য বেড়িয়ে পরলাম…ততক্ষনে বৃষ্টি উধাও হয়ে আলোক-উজ্জল সন্ধ্যা নেমেছে…পৃথিবির সবচেয়ে ইন্টেরেস্টিং রোড “কাওসান” রোডের একটা রেস্টুরেন্টে বসলাম আর রাস্তা দিয়ে চলাচল করা সাদা-কালো-হলুদ মানুষদের দেখতে দেখতে খাওয়া সারলাম…থাইল্যান্ড হলো ল্যান্ড অফ টুরিষ্ট…বিশেষ করে এই সড়কে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অভিনব পোষাকের মানুষদের দেখা মিলে…পাশাপাশি সড়কের চারপাশের খোলা রেস্টুরেন্টের লাইভ মিউজিক পরিবেশটাকে ল্যান্ড অফ ফান বানিয়ে দেয়…দারুন হাসি যুক্ত একটি ওয়েটট্রেস আমাদের খাবার পরিবেশন করল…সাধারণত ফ্লাট উইকেটের থাই মেয়েরা আকর্ষনীয় নয় কিন্তু তাদের দারুন চোখ ধাধানো উত্তেজক দুটো পা আছে, ধবধবে ফর্সা পা, মসৃন কোমল দু জোরা পা…আহা! কি তুলতুলে পা…কিছুক্ষন ঘুরে ফিরে আরেকটি রেস্টুরেন্টে বসলাম, আমাদের সামনেই দৈত্য টাইপের এক ইউরোপিয়ানের সঙ্গে এক মায়াবি চোখের থাই মেয়ে বসে ছিল…কিছুক্ষন পর পর মায়াবিনির সঙ্গে চোখা চোখি হচ্ছে…দৈত্যটি ইংরেজীতে ইনিয়ে বিনিয়ে কিছু বলছে আর মেয়েটি বুঝতে চেষ্টা করছে, মাঝে মাঝে হাসছে মাথা নাড়ছে…বুঝলাম “ইহা ভাড়ায় চালিত পরিবহন” যাত্রা পথের সময় এবং পদ্ধতি বিষয়ক দরদাম নির্ধারন হচ্ছে…বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে সব কিছুই থাই ভাষায়, বেশীরভাগ থাইরা ইংরেজী বলতে পারেনা,…কিন্তু দিব্যি তাদের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রচার ও প্রসার ঘটছে…থাইরা ভাষার জন্য প্রাণ দেয়নি কিন্তু জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে থাই ভাষার প্রয়োগ করছে…আর আমারা ভাষার জন্য জীবনদেয়া জাতী সর্ব ক্ষেত্রে ইংরেজীর ব্যাপক প্রসার ঘটিয়ে চলছি…ভাবতেই গর্ব হয়!!! আমাদের রিক্সাওয়ালারাও দু’একটা ইংরেজী শব্দের প্রয়োগ করতে পারে…মস্তিস্ক বললে বুঝেনা কিন্তু ব্রেইন বললে ঠিকই বুঝে নেয়…হায় দেশ, আমার ভালবাসার বাংলাদেশ; “এমন দেশটি কোথাও খুজে পাবে নাকো তুমি……”
No comments:
Post a Comment