জাপানীজ’দের নিয়ে এই এক জ্বালা সব সময় ঘড়ি ধরে চলতে চায়…ব্যাটা বেড়াতে এসেছিস ঘড়ি ধরে চলার কোন মানে হয়…গত রাতে ঘুমাতে যাবার সময় তুমুল যুদ্ধ হল তার কথা এমন জায়গায় যেতে হবে যেখানে প্লেনে দ্রুত যাওয়া যায়, আর আমার কথা হলো বেড়াতে এসেছি যেহেতু সড়ক পথে যাওয়া যায় এমন কোন জায়গায় যেতে হবে…শেষে আমার জিৎ; “লোনলী প্লানেট” নামক গাইড বই থেকে “কো-সামেদ” জায়গাটি নির্বাচন করলাম…কাষ্ট হাসি দিয়ে বন্ধু সম্মতি দিল…হোটেলের নিচে ট্যুর অপারেটরের কাছ থেকে জানতে পারলাম বাসে এবং রেন্ট এ কারে যাওয়া যাবে…বাসে চার ঘন্টা, রেন্টে এ কারে সারে তিন ঘন্টা…বন্ধু রেন্টে এ কার চুস করল; আমি বললাম ঠিক হ্যায়, ভাড়া কত?? একটা ব্রান্ড নিউ হোন্ডা সিভিক দেখিয়ে বলল তিন হাজার বাথ টোল সহ…এই বার আমার বাঙ্গালী মূলামূলি সত্তা জাগ্রত হল, বললাম দুই হাজার বাথে ম্যানেজ করা যায়না…বেরসিক অপরেটর বলল, তাহলে বাইরে থেকে টেক্সি নিলে ভাড়া আরো কম হবে…মেজাজটা সপ্তমে চড়ল শালা!! এক্কেবারে বোল্ড-আউট!!…আমার বন্ধু বলল, ঠিক আছে সকাল ৮টায় যেন গাড়ি রেডী থাকে…
যথা সময়ে যাত্রা শুরু হলো; বডি ল্যাঙ্গুয়েজে ড্রাইভারকে চালানোর ইঙ্গিত দিয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম…ড্রাইভারটি খুব মজার কিছুক্ষন পর পর থাই ভাষায় প্রশ্ন করছে আমি আর আমার বন্ধু জাপানিজ ও বাংলা ভাষায় উত্তর দিয়ে যাচ্ছি; এক পর্যায়ে বন্ধুকে জিজ্ঞেস করল দেশ কোথায়; জাপান বলাতে এক চান্সে চিনল…কিন্তু হারামজাদা বাংলাদেশ চিনেনা, বিভিন্ন উচ্চারনে বাংলাদেশ বলার পরও যখন চিনল না তখন নেপাল ইন্ডিয়া বলাতে বুঝল বাংলাদেশের লোকেশনটা কোনখানে…এতক্ষন বাংলা, জাপানিজ, থাই কপচানোর পর ড্রাইভার ব্যাটা ক্লান্ত হয়ে গাড়ি চালানোতে মননিবেশ করল…ততক্ষনে আমারা শহর ছেড়ে হাই-ওয়েতে উঠলাম………
গতবার “কো-সামুই” এয়ারক্রাফটে গিয়েছিলাম সেজন্য থাইল্যান্ডের ল্যান্ডস্কেপ দেখার সুযোগ ঘটেনি…লং ড্রাইভে যেতে যেতে একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম জাপান যেমন আমেরিকান স্টাইল অনুসরন করে, তেমনি থাইল্যান্ড জাপানের স্টাইল ব্যপকভাবে অনুসরন করছে, যেমন; স্ট্রিট সাইন, বিলবোর্ড, রোড স্ট্রাকচার প্রভৃতি…চমৎকার মসৃন সারি সারি উড়াল পুলের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলছি…মাঝে মাঝে আমাকে অবাক করে দিয়ে রাস্তার পাশে কৃষ্ঞচূড়া গাছ দেখা যাচ্ছে…তবে রাস্তার পাশে পরিত্যাক্ত জায়গাই বেশী, চাষাবাদ মনে হলো কম হয়…কম্বোডিয়া বর্ডারে যাবার পূর্বে একটা ডান দিকের বাক ঘুরে, গাড়ি সমুদ্র পাড়ের “বান-পা-পীর” থাই ট্যুরিজম অফিসে পৌছাল…১৯০কি:মি: কখন পাড়ি দিলাম বুঝতেই পারিনি, মাত্র তিন ঘন্টা লাগল…প্রায় একই দূরত্ব যশোর-ঢাকা যেতে সময় লাগে পাঁচ ঘন্টার অধিক…যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি খুব দ্রুত করা সম্ভব…কবে যে, আমাদের দেশের মাথা-মুন্ডুদের বোধদয় হবে???
চমৎকার একটি ছায়াঘেরা রেস্টুরেন্টে লাঞ্চ সেরে তরিঘরি করে ক্রুজ শীপে উঠলাম…লক্ষ্যনিয় ব্যাপার জাহাজ যত দ্বীপের কাছে যাচ্ছে তত ইউরোপিয়ান টুরিস্টদের ড্রেস ছোট হচ্ছিল…সরাসরি তাকানো যেহেতু বিব্রত কর…তাই গতবার জাপান থেকে ফেরার সময়, ব্যাংকক এয়ারপোর্টে ট্রানজিট টাইমে ডিউটি ফ্রী শপ থেকে কেনা আমার সাধের রেভেন সানগ্লাসটি পরিধান করলাম…মনের সুখে পাহাড়, পর্বত, টিলা, বাক সমূহ দেখতে দেখতে মাত্র আধাঘন্টার উথাল-পাথাল সাগর ভ্রমন শেষে, সেই কাঙ্খিত “কো-সামেদ” দ্বীপে পৌছুলাম…নেমেই রিসোর্টের বুকিং দেয়া সমুদ্র সম্মুখ বাংলোতে ব্যাগ ব্যাগেজ রেখেই শ্যাম সাগর দর্শনে বেড় হলাম…পাহাড়-সাগর বেস্টিত এলাকটি মুগ্ধ হবার মত, নীল জলরাশীর সঙ্গে সোনালী বালুর সৈকত মন হরন করার জন্য যথেষ্ট…তার সঙ্গে চলন্ত পাহাড়, পর্বত, টিলাতো ফ্রী আছেই…মাঝে মাঝে কিছু উন্মুক্ত ভূমিকম্প তোলা পাহাড় দেখা যাচ্ছে…চমৎকার সাগরের হাওয়াতেও মাঝে মাঝে ঘেমে উঠছিলাম…ভাগ্যিস!! গিড়ি-পথ সমূহ উন্মুক্ত করেনি…রাতে বীচ পার্টিতে…খোলা আকাশের নীচে বসে সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে তালে রক লাইভ মিউজিক শোনার পাশাপাশি পানীয় গ্রহণ…আহা!! বড়ই প্রশান্তির………
No comments:
Post a Comment