সকাল বেলা ড্রাইভারের ডাকে ঘুমটা ভাঙ্গলো…অসহ্য!!! চাবি দিয়ে এসে আবার ঘুম শুরু করতে না করতেই বুয়ার ডাক…দেহ টাকে টেনে-হিচরে কোনরকমে দড়জা খুলে দিলাম…যাহ!! হঠাৎ মনে হলো আজ সন্ধ্যায় ব্যাংককের জন্য ঢাকায় যেতে হবে…হায় হায় এত কাজ; অফিস, টিকেট কাটা, বেগ গুছানো…
জি.এম.জি’তে ফোন দিলাম; আজকের সন্ধ্যার ফ্লাইট কি চালু আছে…
“স্যার আমাদের মেইনটেনেনস জনিত কারনে ফ্লাইট বন্ধ আছে…”
মনে মনে বললাম, মেইনটেনেনস না ছাই; আপনাদের ধর্মঘট কবে শেষ হবে….
“(থতমত খেয়ে) জ্বী না তা তো শেষ আপাতত ফ্লাইট চলছেনা…স্যরি স্যার আমরা দ্রুত আপনাদের সেবা দেয়া শুরু করব…”
ফোনটা রেখে ইউনাইটেডে বুকিং দিলাম…তিনটার সময় অফিস থেকে বেড় হওয়ার প্লান ছিল কিন্তু সব কাজ শেষ করে বেড় হতে হতে সারে ৪টা বেজে গ্যাল…ধুর!!! কখন কি করমু….এয়ারক্রাফটে উঠার সময় এভিয়েশন কর্মী বলল স্যার কিছু বকশিশ দিবেন না…মেজাজ টাই খারাপ, শালা!! সামান্য কাজের লাইগ্গা বকশিশ; কবে যে নিজেদের ডিউটি বুঝব…মুখে হাসি ফুটিয়ে বললাম দেখি ফিরার সময় ব্যবস্থা হবে…এয়ারক্রাফটে ড্রাম টাইপের হোস্টেস দেখে আরেক চোট মেজাজটা খারাপ…ধ্যাৎ! চোখের আরামটাই হারাম…কিছুক্ষন পর হোস্টেস দোয়া-দুরুদ পড়া শুরু করতেই, ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে প্লেইন ক্রাশের আশাংকায় বাইরে তাকিয়ে দেখি এয়ারক্রাফট মাটিতেই আছে…বুঝলাম যাত্রার পূর্বের দোয়া পড়ল…ইন্টেরেস্টিং; ইউনাইটেড তো দেখি পরহেজগার…আমার অপছন্দের শহর ঢাকায় পৌছেয়েই, ঠান্ডা হাওয়ার ঝাপটায় মনটা চনমনে হয়ে উঠল…আমার বন্ধু কাম অফিস পার্টনার সানী ভাইরে ফোন দিলাম…বলল যে, “গেষ্ট নিয়া আসবো, আপনে রেডী থাইকেন”…৮টায় সানী ভাই ও তার ভাগ্নী সহ বনানীর সাব সেন্টারে খেতে গেলাম…এখানে আগে খাই নাই, এক্কেবারে পুরা সেলিব্রেটি রেস্টুরেন্ট; ক্রিকেট তারকাদের ছবিতে সয়লাব…রেস্টুরেন্ট সত্বাধিকারের সঙ্গে দ্যাখা হলো কথা হলো ভদ্রলোক ক্রিকেটের ডাইহার্ড ফ্যান…বাংলাদেশে খেলতে আসা বেশীর ভাগ বিদেশী ক্রিকেটার এখানে খেতে আসে…ভাগ্নীর সঙ্গে আলাপ করতেই জানলাম রামপুরার একই স্কুলে আমরা পড়ছি…গল্প দারুন জমে উঠল স্কুলের সেই দিন গুলাতে ফিরা গ্যালাম…আহা!!! জিওলজি ম্যাডামের কথা মনে পড়ল…পোলাপাইনদের রাতের ঘুম আর হস্তশিল্পের আকর্ষন ম্যাডামকে মনে পড়তেই নষ্টালজিতে আক্রান্ত হলাম….জোড়ে গেয়ে উঠতে ইচ্ছে করল; ও ম্যাডাম, ও ম্যাডাম, আপনি কোথায়…
No comments:
Post a Comment