হঠাৎ করেই মধ্য রাতে হাক-ডাক শুনে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল….দড়জা খুলেই দেখি বাসার চারপাশ কালো র্যাবে সয়লাব…র্যাবের ক্যাপ্টেন পদমর্জাদার একজন বললেন, দূ:খিত; আপনার বাড়ি একটু সার্চ করবো…মধ্য রাতের এই উটকো ঝামেলা দু:স্বপ্ন হয়ে দেখা দিল…খুব দ্রুত চিন্তা করতে লাগলাম; আমার বাসায় কেন সার্চ করবে, কোন অবৈধ জিনিস আছে!….জিজ্ঞেস করলাম সার্চের ইস্যূ কি!! (হতচকিত হয়ে!! সাধারণত মনে হয় কেউ র্যাবকে কোন প্রশ্ন করেনা!!!) একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবি দেখিয়ে বলল যে, উনাকে খুজছি…ততক্ষনে কয়েকজন আমার বাসার খাটের নিচ, ওয়্যার ড্রোভ, টয়লেট, পর্দার আড়াল, এমনকি ফ্রীজ পর্যন্ত চেক করল…মনে মনে বললাম শালা উজবুক, ফ্রীজের মধ্যে কি কেউ লুকায়!!!…দেখলাম যে, আমার এস্টন নিকলের ওয়াইল্ড টার্কির বোতলটা ওদের চোখ এড়ায়নি…ইশ!! মাত্র অর্ধেকটা খাইছি, যদি লইয়া যায়; কেন যে গত রাতে পুরাটা শেষ করলাম না; আফসোস…
মুলত বাড়িওয়ালাকে খুজতে আসছে; বাড়িওয়ালা আবার জেলা বি.এন.পি’র উচ্চ পর্যায়ের নেতা…অলরেডী বাড়িওয়ালা যেখানে থাকে ওপরের ফ্লাট সার্চ করা হয়ে গ্যাছে এখন আমারটি সার্চ করছে যদি পাওয়া যায়….আমার বন্ধু কর্তৃক গিফ্ট পাওয়া আধা খাওয়া ওয়াইল্ড টার্কিটি বাইচান্স যদি হাত ছাড়া হয়ে যায়…সেজন্য বললাম, মেজর রায়হান আসেননি…ভাবে থাকা ক্যাপ্টেন, তরল হয়ে বলল যে, স্যার তো অন্য একটা অপরেশনে আছেন….তো আমার কার্ডটি দিয়ে বললাম ওনাকে আমার শুভেচ্ছা দিয়েন….ঔষুধে কাজ হলো দ্রুত সার্চ সম্পন্ন হলো; সার্চে সহযোগিতার জন্য বিভিন্নভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় হলো…খুশী হইলাম ঘর বেশী উলট পালট করে নাই…চার চোখের সুইট সাবরিনা ও তার বিব্রত পরিবারকে ক্যাউ ম্যাউ টাইপের কিছু শান্তনা দিয়ে ঘরে ফিরলাম…বুঝলাম আইজ আর ঘুম আসবোনা…আমার সাধের ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার এক রাশ কষ্ট নিয়ে ভোর পর্যন্ত ওয়াল্ড টার্কিটি ধিরে ধিরে শেষ করলাম…আহ!!! বহুদিন পর সকালের সূর্য উঠা দেখব…….
No comments:
Post a Comment