প্রচন্ড দাবদাহে পূড়ছে শহর….পূড়ছে গাছ-পালা…….ঝলমলে রোদে নিস্তজ হয়ে পরছে সব কিছু…..লাঞ্চের পর নুন্যতম ১০/১৫মি: কিছু করতে ইচ্ছে করেনা….. অফিসের জানালা দিয়ে গাছপালা ঘেরা পুকুরটা দেখা যায়…মাঝে মাঝে মাছের ভেসে উঠাও চোখে পড়ে….চোখের ও মনের বিশ্রাম নিচ্ছিলাম…এমন সময় কুরিয়ারে জাপান থেকে একটা মেইল আসল….যেহেতু প্রেরকের নাম লেখা ছিল বুঝতে পারলাম কে পাঠিয়েছে…..তাই পুকুর থেকে চোখ সরিয়ে খামটা খুললাম….একি!!! বৈশাখ মাসের তপ্ত দুপুরে একটি চিৎকার দিতে ইচ্ছে করল; ইয়াহুহুহুহুহুহুহুহুহুহুহুহু…….বন্ধু আগেই ই-মেইলে বলেছিল থাইল্যান্ডের ভিসা যেন করিয়ে রাখি…..একেবারে এয়ার টিকেট পাঠিয়ে দিয়েছে…১লা মে থেকে ৬ই মে…..আহা! কি আনন্দ আকাশে বাতাসে…..দারুন!! কপি পেষ্ট লাইফ থেকে কিছু দিনের নিস্কৃতি…..
আমার বন্ধুটি জাপানিজ থাকে ইউকোহামায়….বাংলাদেশে জাইকার কনসালট্যান্ট হিসেব থাকার কারনে বাংলাদেশের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালবাসা….বলে, “আমাল দ্বিতীয় বালি ভাংলাদেশ”….কথা বলার সময় বাংলায় কথা বলার শতভাগ চেষ্টা থাকে…হাত দিয়ে খেতে নাকি তার অনেক “বালো লাগ্গে”…ঝাল ও স্পাইসি ফুড নাকি তার “খুব পুছন্দ”….সাধারণত মে এবং ডিসেম্বর/জানুয়ারী ওর ছুটি থাকে….বাংলাদেশে বছরে একবার তো আসবেই….মাঝে মাঝে দু’বারও আসে….তার সব কিছুতেই বাংলাদেশ প্রীতি…একবার সংসদ ভবনে বেড়াতে গিয়ে বিকালে ঘুরতে আসা মানুষদের জেমসের “মা” গানটি গেয়ে চমকে দিয়েছিল…ঐদিন অনেক হাততালি পেয়েছিল….এবারের জাতীয় নির্বাচনের সময় নিজে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ঘুরা-ঘুরি করেছে….এর একদিন আগে, রাতে রাস্তা দিয়ে যাওয়া নৌকার মিছিলে কিছুক্ষন “লৌকা-লৌকা-লৌকা” করে দৌড়েছে…গত বছর বাবা দিবসের সন্ধ্যায় এন.এইচ.কে রেডিও বাংলাতে আমার বাবার উপর, আমার একটা স্মৃতিচারন মূলক অডিও সম্প্রচার হয়…ও ঐ রাতেই ফোন করে আমাকে হাউমাউ করে তার ভাল লাগার কথা জানায়….প্রতিদিন ইন্টারনেটে বাংলা পত্রিকা পড়তে চেষ্টা করে….বাংলাদেশের যে কোন সু-সংবাদে বা দূ:সংবাদে অবধারিত ভাবে তার ফোন কল পাই…বন্ধুটি একটু কম কথা বলে তবে গলা ভেজালে অনর্গল কথা বলতে পারে….
আসিতেছি বন্ধু আমার….
অপেক্ষায় থেক আমার…
গলা ভেজাব না হয়….
অফুরন্ত কথা মালায়…
দেখা হবে বন্ধু………………
মাঝে মাঝে মনে হয় বন্ধুত্বের কি কোন সীমান্ত থাকে?
No comments:
Post a Comment