সকাল বেলা বুয়ার ডাকে সাধের ঘুমটা ভাঙ্গলো…..ইশ!! কেন যে এত সকালে আসে……..ঘুম ঘুম চোখে দড়জা খুলে ওভেনে কফির জন্য পানি গরম দিলাম…..বুয়া বিদ্যুৎ বেগে কাজ করছে……সব বুয়ারাই কি আরেকটা বাড়িতে কাজ করার তারা থাকে?…….কফি সিগেরেট খেতে খেতে সকাল আটটার সংবাদটি দেখছি……যাহ! শালা সকাল বেলা উঠেই পায়জামা দেলয়োরের চেহারা দেখতে হলো……দিন যে কেমন যাবে!!!…..জোশ একটা গোসল দিয়া অফিসের জন্য বেড় হতেই বাড়িয়লার ড্রাইভার মাহমুদ বলল ভাই দুবাই চইলা যাইতাছি……বহুত খুব পড়ে হুনমুনে বইলা………রকেট গতীতে অফিসে পৌছালাম…..যাহ!! আজও ১০মি: লেইট…….টাইমের লগে তো পারা যাচ্ছেনা………….সোজা ক্যান্টিনে গিয়ে নাস্তার উপর হুমরি খেয়ে পড়লাম….সকাল বেলা খাওয়া “বড়ই যাতনা ময়”………..
আমার ডেস্কে এসেই অর্ন্তরজালে ঢুঁ………খাইছে!! এত বড় মেইল কখন পড়মু আর কখন উত্তর দিমু…….এত বড় মেইল লেখে কেন?……..
মুঠোফোনের কল পেয়ে দিনের স্ট্রার্ট-আপ হাসিটা দিয়া হ্যালো বলালাম…….কি করো?…….নাস্তা করেছ…….কখন অফিসে আসছো……দুপুরে কি দিয়া খাবা…..এই সব আবজাব প্রশ্নের উত্তর দিয়া….আবজাব খোজ নিয়া কাম কাইজ শুরু করতে না করতেই……ড্রাইভার আইসা কইল…বস, তেল লাগব……মেজাজটা বিলা হইতে হইতে গিয়া ম্যানাজ কইরা জিগাইলাম….
“সেদিন না তেল ভরে দিলাম……এত ঘন ঘন তেল লাগছে কেন?”
গাড়ি তেল খাইতাছে অনেক……..
“ঠিক আছে লগ বইটা নিয়া আসেন”
অনিচ্ছা সত্তেও ড্রাইভারের প্রস্থান….এবং অনতিবিলম্বে লগবই সহকারে আগমন…..
কি ব্যাপার তেলের ট্যাংক কি লিক হয়ে গ্যাছে নাকি……হিসাব তো মিলছেনা…তেল যাচ্ছে কোথায়……..কিছুক্ষন ঝারা ঝাড়ি……সব ড্রাইভার কি তেলের হিসাব দিতে পারেনা?………
তিনবার ক্যান্টিন স্টাফ সখিনা এসে ডেকে যাওয়ার পর হুশ হলো, দুপুরে তো খাওয়া দরকার…….ম্যানু দেখেই খাওয়ার অর্ধেক ইচ্ছা উড়ে গেল……তিব্র বেগে গলধ:করন পূর্বক ঢেকুর তুলিতে তুলিতে সোজা ডেস্কে……..রিশিপশনে ফোন দিলাম রিসিপশনের দশাসই মহিলাটি ফোন ধরে বলল……“হ্যালো গুড আফটার নুন……রিসিপশন”…..আমার অফিসে প্রথম আলো পাঠিয়ে দ্যান……
ডুবন্ত সন্ধ্যায় অফিস থেকে বেড় হওয়ার পর দেখি…….পুরা অফিস ফাকা…হায় হায়! আমার আগে সব গুলা ভাগছে……বাসায় ফিরা আই.পি.এল দেখার আশা নিয়া আয়েস কইরা সিগারেট ধরাতে না ধরাতেই “পৃথিবী আন্ধার”……বারান্দায় আসলাম……..আহা! আজ কেন চাঁদ উঠেনি? প্রতিদিন যদি চাঁদটি উঠত………
No comments:
Post a Comment